কলকাতা: শতাব্দীপ্রাচীন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ঘিরে ফের বিতর্কের ঝড়। ক্লাবের সভাপতি তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট তিনটি চেকই বাউন্স করেছে। ফলে প্রতিশ্রুত দেড় কোটি টাকার অনুদান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ক্লাব তাঁবুর সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মহামেডান স্পোর্টিংয়ের কর্মসমিতিতে পরিবর্তন আসে। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবীর ক্লাবের আর্থিক সংকট কাটাতে দেড় কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ৫০ লক্ষ টাকা করে তিনটি চেক ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু একের পর এক তিনটি চেকই বাউন্স করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
এর আগে দুটি চেক বাউন্সের ঘটনা সামনে এসেছিল। বৃহস্পতিবার তৃতীয় চেকটিও বাউন্স হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে হুমায়ুন কবীর জানান, একটি বড় অঙ্কের অর্থ তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত সময়ে জমা না পড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হবে।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, ভারতীয় ফুটবল সংস্থা (IFA)-র কাছে ক্লাবের বকেয়া মেটানোর উদ্দেশ্যেই তিনি এই অনুদানের ঘোষণা করেছিলেন। তবে বারবার চেক বাউন্স হওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার কলকাতা লিগে সুরুচি সংঘের বিরুদ্ধে মহামেডানের ম্যাচ চলাকালীন ক্লাব তাঁবুর সামনে বিক্ষোভে সামিল হন সমর্থকরা। তাঁরা ক্লাবের মূল ফটকে জড়ো হয়ে সভাপতির সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলার দাবি জানান। পরে ফোনে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সমর্থকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছিল মহামেডান স্পোর্টিং। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর এবং ডুরান্ড কাপে জয় দিয়ে দল ইতিবাচক সূচনা করলেও, সভাপতি প্রদত্ত চেক বাউন্সের ঘটনায় সেই আবহে বড় ধাক্কা লাগল।
এখন ক্লাব কর্তৃপক্ষ, সমর্থক এবং ফুটবল মহলের নজর আগামী ১০ আগস্টের দিকে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হুমায়ুন কবীর অর্থ পরিশোধ করতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।





































