বাংলায় প্রথম ডবল ইঞ্জিন সরকারের বাজেট বিনিয়োগবান্ধব-স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় প্রত্যাশা

Picture of Atikul Sardar

Atikul Sardar

Edited By


বাংলায় প্রথম ডবল ইঞ্জিন সরকারের বাজেট বিনিয়োগবান্ধব-স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় প্রত্যাশা

বাংলায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে আগামী সোমবার। বিধানসভায় এই বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট ঘিরে....

Picture of Natun Din Desk

Natun Din Desk

Edited By


বাংলায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে আগামী সোমবার। বিধানসভায় এই বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

বাজেট ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা ও প্রত্যাশা বাড়তে শুরু করেছে। দেড় দশক ধরে শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী— সকলের জমে থাকা প্রত্যাশার কতটা পূরণ হয়, সেদিকেই নজর সবার।পূর্তি রিয়েলটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহেশ আগরওয়াল জানান, নতুন সরকার তাদের প্রথম রাজ্য বাজেট পেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ব্যবসায়ীরা এমন উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন, যা রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশকে উন্নত করবে, শিল্পোন্নয়নকে গতি দেবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।

বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন ভূমি নীতি বাস্তবায়নে সরকারের সাম্প্রতিক জোরকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ, কার্যকর সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা, পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রাজ্যকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলতে জরুরি।আগরওয়াল আরও বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতের বড় প্রত্যাশা হল আরবান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্টের কাঠামোর অবসান, যা দীর্ঘদিন ধরে জমি একত্রীকরণ ও প্রকল্প উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি প্রস্তাব দেন, গ্রুপ কোম্পানিগুলির একীভূতকরণে স্ট্যাম্প ডিউটি মকুব বা ছাড়ের কথা বিবেচনা করা উচিত রাজ্যের। সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনে স্ট্যাম্প ডিউটি সুবিধা অব্যাহত রাখা, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

জৈন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঋষি জৈনের মতে, এই বাজেট থেকে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা আরবান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট বাতিল করা, যা বড় আকারের শিল্প স্থাপনের পথে দীর্ঘদিনের বাধা। তিনি স্পেশাল ইকোনমিক জোন-এর সুবিধা পুনরায় চালু করার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে উৎপাদন ও পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন।স্বাস্থ্য খাতেও প্রত্যাশা তুঙ্গে।

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ এমএস পুরকাইত বলেন, রাজ্য বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন— শহর ও গ্রাম দুই অঞ্চলেই আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্যবস্থা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর জোর দেন তিনি।

তাঁর মতে, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা একটি সুস্থ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ।ফিউশন সিএক্স-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান, এমডি ও সিইও পঙ্কজ ধনুকা জানান, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলা থেকেই তাঁরা তাঁদের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন রাজ্যের সম্ভাবনার ওপর আস্থা রেখে। তাঁর মতে, মাঝারি আকারের ও স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পের চেয়েও বেশি জরুরি হল সরকারের আস্থা— এমন একটি সরকার যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে।

সল্টলেকের ইস্পাত প্রস্তুতকারক সংস্থা গ্লোবাল সিমলেস টিউবস অ্যান্ড পাইপস-এরও মালিক ধানুকা মনে করেন, নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটে আইটি, আইটিইএস ও উৎপাদন খাতের কাঠামো নতুন করে সাজানোর সুযোগ রয়েছে, যেখানে থাকবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা।

কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলির আইটি নীতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলার নতুন নীতিতেও সব আকারের কোম্পানির কথা মাথায় রেখে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।