নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নতুন দিন – বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় প্রাণ হারানো মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। দুর্ঘটনায় মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তিনি মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘোষণা করেন, প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। বঙ্গোপসাগরে দুর্যোগের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একাধিক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন মৎস্যজীবী। এখনও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান। দুর্ঘটনার পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে উপকূলবর্তী মৎস্যজীবী পরিবারগুলিতে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্যও সহায়তার কথা জানানো হয়। জানা গিয়েছে, গত ২ জুলাই শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর থেকে ‘জয় মা কালী’ নামের একটি ট্রলার ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে সমুদ্রে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ৫ জুলাইয়ের পর থেকেই ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর কোস্ট গার্ড এবং রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সুন্দরবনের বাঘের চক এলাকার কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধারকারীরা একাধিক দেহ উদ্ধার করেন। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এখনও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের খোঁজে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী রবিবার রামনগর ১ নম্বর ব্লক কার্যালয় থেকে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, একই সময়ে সিকিমে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই ঘটনায় বাংলার কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারগুলির পাশেও থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। সিকিমে উদ্ধারকাজের বিষয়ে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে উদ্ধারকাজে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের জীবন বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ট্রলারডুবির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি সাহায্যের ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের দ্রুত উদ্ধারের আশায় এখনও অপেক্ষায় রয়েছে তাঁদের পরিবার।





































