প্রশ্নফাঁস আইন ২০২৬: বিল পাশের পর কড়া বার্তা মোদির
সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়েছে পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। বিলটি পাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রশ্নফাঁস চক্র ও পেপার মাফিয়াদের আর কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে পরীক্ষা পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল নজরদারি এবং তথ্য নিরাপত্তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
নতুন আইনে কী রয়েছে?
সংশোধিত আইনে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় জালিয়াতি বা অন্য কোনও অসাধু উপায়ে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
- প্রশ্নফাঁসে দোষী হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
- সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
- সংঘবদ্ধ ‘পেপার মাফিয়া’ জড়িত থাকলে ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড।
- সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান।
সরকারের দাবি, এই কঠোর আইনের ফলে সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
সংসদে বিতর্ক
বিলটি নিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিস্তর আলোচনা হয়। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন। পরে ধ্বনি ভোটে বিলটি লোকসভায় গৃহীত হয়। বিরোধী শিবিরের একাংশ ওয়াকআউট করে। এরপর রাজ্যসভাতেও বিলটি পাশ হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, বিতরণ, ডিজিটাল নজরদারি এবং তথ্য নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে আরও শক্তিশালী পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
সরকারের মতে, প্রশ্নফাঁসের কারণে প্রতি বছর বহু পরীক্ষার্থী মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। নতুন আইন সেই সমস্যার মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।





































