বিশ্বকাপের আগে কড়া বার্তা আর্জেন্টিনা সরকারের, ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়াদারদের স্টেডিয়ামে নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে মাঠের বাইরেই বড় বার্তা দিল আর্জেন্টিনা সরকার। লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই প্রায় ১৩ হাজার সমর্থকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা নিজেদের সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ নিয়মিত পরিশোধ করেননি। ফলে তাঁদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বুধবার ভারতীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। একই গ্রুপে রয়েছে জর্ডন ও অস্ট্রিয়াও। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই এবারও দলে থাকায় আর্জেন্টিনাকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তবে মাঠে নামার আগেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দেশটি।
এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা সরকারের ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ (Safe Stands) উদ্যোগ। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব ব্যক্তি নিজেদের সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলেও বিনোদন বা অন্য খাতে অর্থ ব্যয় করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি বার্তা দেওয়া।
আর্জেন্টিনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, তাতে এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে যাঁদের বিরুদ্ধে আদালত ইতিমধ্যেই চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া রাখার অভিযোগে রায় দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে কেউ ফুটবল উপভোগ করার সুযোগ পেতে পারেন না।
বুয়েন্স আইরেসের মেয়র জর্জ মাক্রি এ প্রসঙ্গে বলেন, “যাঁরা নিজেদের সন্তানের দেখভাল করেন না, তাঁদের ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার অধিকার থাকা উচিত নয়।”
সরকারের মতে, এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় উপকারভোগী হবে সেই সব শিশু, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ প্রকল্প চালুর পর থেকে আর্জেন্টিনায় ব্যাপক জনসমর্থন মিলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১,৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে প্রায় ৪০ লক্ষের বেশি পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও এই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ফলে নিষিদ্ধ ব্যক্তির সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন মেসিদের দিকে। অনেকের মতে, এটি হতে পারে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই ২০২২ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করে আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপা জিততে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।














