ফলতার একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে ঘিরে চাঞ্চল্য ক্রমশ বাড়ছে। পাঁচ দিনের প্রথম দফার পুলিশি হেফাজত শেষ হওয়ার পর রবিবার তাঁকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে পেশ করা হয়।

নতুন দিন – তদন্তের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতের কাছে আবেদন জানায় পুলিশ। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত জাহাঙ্গির খানকে ফের ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমি দখল, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করার মতো নানা অভিযোগে তাঁর নাম বারবার সামনে এসেছে। সম্প্রতি একটি ডাকাতি ও মারধরের মামলাও তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ বণ্টন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আবাস যোজনার অর্থ তছরুপের অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
রবিবার আদালতে তোলার সময় ডায়মন্ড হারবার আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় জাহাঙ্গির খানকে হাতজোড় করে মাথা নত অবস্থায় দেখা যায়। এমনকি কান ধরে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায় তাঁকে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে জাহাঙ্গিরের ফের পুলিশি হেফাজত নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

























