প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্না, আটক রাহুল-অখিলেশ-প্রিয়াঙ্কা

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদব
Picture of Atikul Sardar

Atikul Sardar

Edited By


প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্না, আটক রাহুল-অখিলেশ-প্রিয়াঙ্কা

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিরোধীদের ধর্না, আটক রাহুল-অখিলেশ-প্রিয়াঙ্কা নয়া দিল্লি | নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানী দিল্লিতে মঙ্গলবার ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক....

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদব
Picture of Natun Din Desk

Natun Din Desk

Edited By


প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিরোধীদের ধর্না, আটক রাহুল-অখিলেশ-প্রিয়াঙ্কা

নয়া দিল্লি | নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী দিল্লিতে মঙ্গলবার ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস এবং বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা। পরে পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক নেতা ও কর্মীকে আটক করে।

মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে মিছিল করে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। মিছিল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি পৌঁছতেই গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর জওয়ান।

ধর্নাস্থলে বিরোধী নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি জানান।

আন্দোলনের মাঝেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কয়েক মিনিট আলোচনা করলেও কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি। পরে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, কংগ্রেস প্রথমে সংসদে NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিল। সরকার সেই দাবিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর পর কংগ্রেস নতুন করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলে।

অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, শুধু সংসদে আলোচনা নয়, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় দলটি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিল্লি পুলিশ ধর্না তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে পুলিশি গাড়িতে তুলে আটক করা হয়। আরও বহু কংগ্রেস কর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিজেপির একাংশের দাবি, বিরোধীদের এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং বারবার দাবি পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী রাহুল গান্ধীর আন্দোলনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে হলে অন্যভাবে প্রতিবাদ সংগঠিত করা উচিত ছিল।

এই ঘটনার পর দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থান ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত।