নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নতুন দিন – ফেসবুক লাইভে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মদন মিত্রের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে করা একাধিক মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্রবণা সেনগুপ্তের মাধ্যমে গত ২১ জুলাই ইমেইল ও স্পিড পোস্টে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টার মধ্যে মদন মিত্র তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি লাইভ সম্প্রচার করেন। অভিযোগ, সেই লাইভের একটি অংশে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপরাধী এবং খুনি বলে উল্লেখ করেন। আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চুক্তিভিত্তিক খুনি বা সুপারি দিয়ে মানুষ হত্যা করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মানসিকতারও অভিযোগ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর ফলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মর্যাদা ও জনসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নোটিশে আরও একটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। লাইভ সম্প্রচারের শেষদিকে মদন মিত্রকে নেপথ্যে উপস্থিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তির উদ্দেশে এনিথিং মোর বলতে শোনা যায়। যদিও সেই ব্যক্তিকে ভিডিওতে দেখা যায়নি। এই ঘটনাকে সামনে রেখে নোটিশে দাবি করা হয়েছে, পুরো বিষয়টি তাৎক্ষণিক মন্তব্য নয়। বরং এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা অথবা একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। উদ্দেশ্য ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করা। আইনি নোটিশে মদন মিত্রের সামনে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দুটি শর্ত রাখা হয়েছে। প্রথমত, লিখিতভাবে এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিঃশর্ত প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্মানের ক্ষতির জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাপ্ত এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হবে না। বরং তা একটি নিবন্ধিত ট্রাস্টে জমা রাখা হবে। সেই তহবিল দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনা এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজে ব্যয় করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও নোটিশে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই শর্তগুলি পূরণ না করা হয়, তাহলে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মদন মিত্রের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মদন মিত্র এই নোটিশের জবাব দেন কি না এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না।





































