নতুন দিন – এই আবহে আলোচনায় উঠে এসেছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই নামের একটি তুলনামূলকভাবে অচেনা রাজনৈতিক দল।
২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপিআই। সেই বিজ্ঞপ্তিতে দলের কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল হাওড়ার বাঁকড়ার নটপাড়া এলাকার একটি ঠিকানা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এনসিপিআই মূলত জনজাতি সম্প্রদায়ের স্বার্থ নিয়ে কাজ করে। অসম ও ত্রিপুরায় তাদের কিছু সাংগঠনিক কার্যকলাপ থাকলেও জাতীয় স্তরে বা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি দলটি। অতীতে নির্বাচনে অংশ নিলেও বড় কোনও সাফল্য পায়নি।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। বিধানসভা ও লোকসভার একাংশ জনপ্রতিনিধি দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের চেষ্টাও দেখা গিয়েছে। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী স্বীকৃত একটি রাজনৈতিক দলের অংশবিশেষ আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে সহজে স্বীকৃতি পায় না। সেই কারণেই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের অনুমান।
বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

























