মথুরাপুরে সাংসদ বাপি হালদারের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, ভিতরে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ বিক্ষোভকারীদের
মথুরাপুর, নতুন দিন – রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে সাংসদ বাপি হালদারের দলীয় কার্যালয় ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বহু মহিলা কৃষ্ণচন্দ্রপুরে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। একসময় ক্ষোভে ফেটে পড়া জনতা কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে ভাঙচুর চালায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য বরাদ্দ অর্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এই ক্ষোভের জেরেই তারা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু ভিতরে ঢুকে যে দৃশ্য তাদের সামনে আসে, তা দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাইরে থেকে সাধারণ একটি রাজনৈতিক কার্যালয় মনে হলেও ভিতরে ছিল যেন একেবারে রাজকীয় আয়োজন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একাধিক কক্ষ, বড় আকারের ফ্রিজ, দামি আসবাবপত্র, আরামদায়ক সোফা, আধুনিক সাজসজ্জা এবং বিলাসবহুল বক্স খাট দেখে হতবাক হয়ে যান বিক্ষোভকারীরা।
অনেকেই মন্তব্য করেন, এটি দলীয় কার্যালয়ের চেয়ে যেন কোনও অভিজাত অতিথিশালা বা ব্যক্তিগত বিলাসবহুল বিশ্রামকক্ষের মতো লাগছিল। বিশেষ করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের একাংশের বক্তব্য, যেখানে এলাকার বহু মানুষ ন্যূনতম সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন ঘুরছেন, সেখানে জনসেবার নামে পরিচালিত একটি কার্যালয়ের ভিতরে এমন রাজকীয় জীবনযাপনের চিহ্ন দেখে তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সুবিধা কোথায় গেল, আর কার্যালয়ের ভিতরে এই বিপুল আয়োজন কীভাবে সম্ভব হল?
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, কার্যালয়ের ভিতরে সরকারি ত্রাণ সামগ্রীও মজুত করে রাখা হয়েছিল।
সেখান থেকে ত্রিপল, স্যানিটারি ন্যাপকিন-সহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর জনতার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং পরে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকাজুড়ে এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।






































