দক্ষিণ ২৪ পরগনা, রায়দিঘি রাকেশ শেখ: প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে এবার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রাজিবুল ইসলাম মোল্লা। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার মথুরাপুর-১ নম্বর ব্লকের সন্তোষনগর বায়তুল হিকমা মিশন। রাজিবুলের এই কৃতিত্বকে সম্মান জানাতে রবিবার মিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সন্তোষনগর বায়তুল হিকমা মিশনের ছাত্র রাজিবুল ইসলাম মোল্লা **NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ২০,৬১৯ র্যাঙ্ক** অর্জন করেছেন। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি এমবিবিএস পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। রাজিবুলের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির আবহ তৈরি হয় মিশন চত্বরে।

রবিবার আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজিবুলকে উত্তরীয়, ফুলের স্তবক, পেন ও অন্যান্য উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন বায়তুল হিকমা মিশনের সম্পাদক **মেহতাব উদ্দিন গাজী** এবং মিশনের প্রিন্সিপাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজিবুলের বাবা **নফুর আলী মোল্লা**, মিশনের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা। রাজিবুলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন উপস্থিত সকলেই।
মিশনের সম্পাদক মেহতাব উদ্দিন গাজী বলেন, **“এটা আমার জীবনের একটি বড় পাওয়া। এরকম খুশি আমার জীবনে এর আগে কখনও হয়নি। ২০১৮ সালে সন্তোষনগরের মতো একটি প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকায় এই মিশনের পথচলা শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে ২০২৬ সাল এসে গেল। আর আজ আমাদের মিশনের একজন ছাত্র ডাক্তার হওয়ার পথে। আগামী দিনে সে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে—এটাই আমার কাছে পরম পাওয়া।”**
২০১৮ সালে পথচলা শুরু করা সন্তোষনগর বায়তুল হিকমা মিশনে বর্তমানে প্রায় **৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী** পড়াশোনা করছে। প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করাই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মিশন কর্তৃপক্ষ।

রাজিবুলের এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবার কিংবা বায়তুল হিকমা মিশনের নয়, গোটা সন্তোষনগর এলাকার কাছেই গর্বের বিষয়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে তাঁর এই সাফল্য মিশনের অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদেরও ভবিষ্যতে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশাবাদী শিক্ষক-শিক্ষিকা ও মিশন কর্তৃপক্ষ।





































