কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইয়ের রয়্যালটি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তাঁর বই বিক্রির রয়্যালটির অর্থ তিনি পাননি। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত করেন, এর পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি সরকারি বেতন বা পেনশনের উপর নির্ভর করেন না। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও বেতন নিতেন না এবং এখনও পেনশন গ্রহণ করেন না। দীর্ঘদিন ধরে বই লিখে আসছেন এবং সেই রয়্যালটির অর্থ থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত খরচের বড় অংশ চলে। কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত সেই অর্থ তাঁর হাতে পৌঁছায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিক্রিয়া দেন দে’জ পাবলিশিংয়ের কর্ণধার সুধাংশুশেখর দে। তিনি জানান, রয়্যালটির অর্থ আটকে রাখা বা না দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী লেখকদের রয়্যালটি প্রদান করা হয় এবং এবারও সেই নিয়মই অনুসরণ করা হবে।
প্রকাশনা সংস্থার দাবি, সাধারণত জুন মাসের পর থেকে রয়্যালটি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং হিসাবনিকাশ সম্পন্ন করে অর্থ পাঠানো হয়। তাই চলতি বছরেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অর্থ পাঠানো হবে।
মমতার আরও কয়েকটি বই প্রকাশ করেছে বি বুকস। সংস্থার কর্ণধার এষা চট্টোপাধ্যায়ও জানান, সময়মতো নিয়ম মেনেই রয়্যালটির অর্থ প্রদান করা হবে এবং রাজনৈতিক চাপের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা ভাষার অন্যতম বহুল প্রকাশিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা দেড়শোরও বেশি। কবিতা, প্রবন্ধ, আত্মকথা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজভাবনা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ।
বর্তমানে রয়্যালটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ এবং প্রকাশকদের ব্যাখ্যার মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ে রয়্যালটির অর্থ প্রদান করা হলে এই বিতর্কের অবসান ঘটে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।





































