কলকাতা: শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তিনি দাবি করেন, আসল তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের নেতৃত্বেই রয়েছে। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দেন।
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, তাঁদের কর্মসূচিতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। কাউকে অর্থ দিয়ে আনা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের সমর্থন নিয়েই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক লড়াই চলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধু একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিলেই প্রকৃত সংগঠন তৈরি হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের মদতেই বিভ্রান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। বিদ্রোহী নেতাদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, অনেকেই দল ছেড়ে গেলেও কর্মীরা এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কেউ যদি সংগঠন দখলের চেষ্টা করেন, তাহলে তার গণতান্ত্রিক ও আইনি মোকাবিলা করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
কী এই ১৯৯৭ সালের ‘ইন্ডোর-আউটডোর’ প্ল্যান?
নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৭ সালের কংগ্রেসের ‘ইন্ডোর-আউটডোর’ পরিকল্পনার কথা স্মরণ করেন। সে সময় কলকাতায় কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলেও, মতপার্থক্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পৃথক জনসভা করেন। সেই সভায় ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল এবং ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ, দলীয় প্রতীক এবং বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। আগামী দিনে এই সাংগঠনিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





































